ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতকে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় মেধাবী চিকিৎসক ও তরুণের অকাল মৃত্যুর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের জনতা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত সড়কের দাবিতে শহরের তাহির প্লাজার সামনে ‘বিক্ষুব্ধ ছাতকবাসীসহ একাধিক ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নিরাপদ-ঝুঁকিমুক্ত সড়ক চাই, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তি চাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে কয়েকশ মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে রাজপথে নেমে আসে। গত ১৭ ডিসেম্বর চিকিৎসক এমরানুল বাশার অপু এবং গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে তরুণ মোটরসাইকেল চালক রেজাউল আলমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ১০ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল।
ছাতক বাজার ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. আফছার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এড সুফি আলম সোহেল, সম্প্রতি দূর্ঘটনায় নিহত মরহুম ডাক্তার এমরানুল বাসার অপু’র পিতা আবুল বাসার,মন্ডলীভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলালুল ইসলাম, ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অজয় কৃষ্ণ পাল,হোমিও চিকিৎসক করুনা সিন্ধু রায়, চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমরেশ সরকার সঞ্জু, ফুটবলার সৈয়দ লাল মিয়া, নিরাপদ সড়ক চাই সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজয় পোদ্দার, হুমায়ুন আহমেদ সুহেল, দিলবর আলী, টিম ছাতকের ফাউন্ডার সায়েদুর রহনান সায়েদ, দিলিপ চন্দ্র দাস।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কে অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া গতির কারণে বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচল মৃত্যুঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর শহরের রওশন কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত উদীয়মান চিকিৎসক ডা. এমরানুল বাশার অপু ২৩ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই গত শনিবার রাতে ছাতক-সিলেট সড়কের ২নং ব্রিজের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বড়গল্লা গ্রামের তরুণ রেজাউল আলম। এসব ঘটনা পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মানববন্ধন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের আইনের আওতায় আনা, শহরের ব্যস্ততম এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে কার্যকর গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা। এছাড়া ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ী আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিয়োগের দাবিও জানানো হয়। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ উৎপল গোস্মামী, কামাল আহমদ, তানজিদ চৌধুরী, জহির উদ্দীন দিনান, সৈয়দ আহমদ লেচু, জুমলাদ চৌধুরী, রাসেল চৌধুরী, মুতাসিম বিল্লাহ , মীর তানিব, লোকমান রনি চৌধুরী, তাজ উদ্দিন, জুবায়েদ আহমদ, শাওন আহমদ, সেবুল আহমদ, ঐক্যবদ্ধ ছাতক মানববন্ধনের উদ্যোক্তা মামুন আহমেদ, আবুল খায়ের টুটুল ,সানী দাস, ইয়াছিন খান রাব্বি, সৈয়দ তাজ উদ্দিন, নূর আলম সহ শহরের বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংবাদকর্মীর নাম 







